হযরত পীর খানজাহান আলীর পুন্যভূমি বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার এক সময়ের খরস্রোতা বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী সবুজ শ্যামলে ঘেরা পাখ-পাখালির কলকাকলিতে মুখরিত বাংলা মায়ের ঐতিহ্যবাহী আন্ধারমানিক গ্রামে কতিপয় বিদ্যানুরাগী ব্যক্তি নারী শিক্ষার মূলমন্ত্রে দিক্ষীত হয়ে তাদের নিরলস পরিশ্রম ও ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় অনগ্রসর নারীদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করার মানসে  প্রতিষ্ঠা করেন ‘আন্ধারমানিক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়।’ বিদ্যালয়টি ১৯৭০ সালে স্থাপিত হলেও এর প্রকৃত যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৭সালে। ১৯৬৭ সালে বর্তমান আন্ধারমানিক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২৫০ গজ দূরে আন্ধারমানিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সকালের শিফটে বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস করতেন আন্ধারমানিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচ জন শিক্ষক ও কয়েকজন অস্থায়ী শিক্ষক। এদের ভিতর উল্লেখযোগ্য ছিলেন- কৃষ্ণকান্ত মন্ডল (অস্থায়ী প্রধান শিক্ষক),নিকুঞ্জ বিহারী মন্ডল, ধীরেন্দ্রনাথ হালদার, কাত্যায়নী মিস্ত্রী, সুধন্য বাবু, দুলালী বিশ্বাস, বিন্দু মিস্ত্রী প্রমুখ। বিদ্যালয়টি ১৯৬৮ সালে নিম্ন মাধ্যমিক হিসেবে ও ১৯৭০ সালে মাধ্যমিক হিসেবে স্বীকৃতি পায় (তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত)। নির্ধারিত জায়গার অভাবে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত আন্ধারমানিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই আন্ধারমানিক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ১৯৭২ সালে আন্ধারমানিক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি তার নিজস্ব জায়গায় আন্ধারমানিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাহায্যে আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। প্রথমে বিদ্যালয়টিতে শুধুমাত্র মানবিক বিভাগ চালু থাকলেও কয়েক বছরের মধ্যে বিজ্ঞান ও বানিজ্য বিভাগ খোলা হয়। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠা লগ্নে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস, এর পরে যথাক্রমে শেফালী বিশ্বাস, রমা বিশ্বাস, ঊর্মিলা বিশ্বাস, দেবী রাণী ঘোষ ও মাধবী রাণী রায় (বর্তমানে কর্মরত)। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন কচুয়ার কৃতি সন্তান ও তৎকালীন সংসদ সদস্য  মীর সাখাওয়াত আলী দারু। বিদ্যালয়টি কচুয়া থানায় স্থাপিত প্রথম বালিকা বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির মনোরম পরিবেশ সকলকে মুগ্ধ করে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৫জন শিক্ষক, ১জন লাইব্রেরিয়ান ও ৪জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। বিদ্যালয়টিতে ২টি পাকা ভবন, ২টি টিনশেড ঘর, প্রবীনী ফাউন্ডেশন (আমেরিকা) কর্তৃক নির্মিত শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য ৪কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন, শিক্ষকদের থাকার জন্য ২কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনসেড আধা পাকা ভবন, একটি শানবাধানো পুকুর, পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থাসহ সুপেয় পানির জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যলয়ে বর্তমানে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে । আমি বিদ্যালয়ের  সাফল্য ও মংগল কামনা করছি।